ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি ও চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে, আশরাফুল হক ডনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তিনি পুনরায় পলাতক হতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে তাকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডি জানায়, রোববার ভোর ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সময় আশরাফুল হক ডনকে আটক করা হয়। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়। আদালতের হাজতখানায় রাখার পর বিকেলে তাকে এজলাসে তোলা হয়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, আশরাফুল হক ডন সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি। গত বছরের ২১ অক্টোবর মামলা হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন তিনি। তবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সময় তাকে আটক করা হয়।
আদালতে পাঠানো সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার কারণে আশরাফুল হক ডনকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার বিষয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছিল। তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তিনি ফের আত্মগোপনে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তার জামিনের বিরোধিতা করে তাকে জেলহাজতে রাখার আবেদন জানায় সিআইডি।
ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন।
বর্তমানে আলোচিত মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি। এরই মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আটবার পিছিয়েছে। সর্বশেষ আগামী ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।
অনলাইন ডেস্ক